
স্বজনপ্রীতি-হয়রাণী, অনিয়ম-দূর্নীতি, ভূয়া রেজুলেশন তৈরী, উৎকোচ গ্রহন, হুমকি-ধামকি প্রদান ও অপকর্ম’সহ ৯টি অভিযোগ এনে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ আলী গণির বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন পরিষদের ৯ জন সদস্য (মেম্বার-মহিলা মেম্বার)। রোববার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রশাসক সুনন্দা রায় বরাবরে প্রদান করা অনাস্থা প্রস্তাবটি প্রদান করেছেন পরিষদের ওই ৯ সদস্য।
অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শফিক মিয়া, বখতিয়ার আহমদ, পংকজ বিহারী দাস, আব্দুর রব রাজু, হাবিবুল ইসলাম, ফজলুল হক, মতিন মিয়া ও মহিলা মেম্বার সুনাবান বিবি, পারবিন বেগম।
অনাস্থা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নৌকা প্রতিক নিয়ে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘ইভিএম’ জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক ভয়-ভীতিত প্রদর্শন করে পরিষদে আসা সরকারি বরাদ্ধ পরিষদের নির্ধারিত সদস্যদেরকে না জানিয়ে নিজের পছন্দের লোকজনের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে একাই সকল আত্মসাৎ করেছেন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ আলী। ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের ফ্রান্স প্রবাসী সাব্বির আহমদের বাড়িতে ৪ সদস্যর পরিবারে ডিপ-টিউবওয়েল স্থাপন করার মাধ্যমে চেয়ারম্যানকে নিয়ে এলাকায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের ভাতা (বয়স্ক-বিধবা-প্রতিবন্ধি) প্রকৃত ভুক্তভ‚গিকে না দিয়ে, টাকার বিনিময়ে যার কোনো ভাতার প্রয়োজন নেই তাকে দিয়েছেন। পরিষদের আয়-ব্যয় হিসাব কেউ চাইলে চেয়ারম্যন আরশ আলী গণি তার সাথে খারাপ আচরণ করার পাশাপাশি নানান ধরণের হুমকি-ধামকি দিতেন, যাতে তার কাছে পরবর্তি সময়ে আর কেউ হিসাব না চায়।
অনাস্থা প্রস্তাবে আরোও উল্লেখ করা হয়েছে, পরিষদে কোন ধরনের রিলিপ বা সরকারি ত্রাণ বরাদ্ধ আসলে পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ আলী গনি আমাদেরকে (পরিষদের সদস্য) না জানিয়ে নিজের মনগড়াভাবে তা বন্টন করতেন। আর পরিষদের সদস্যদের কেউ এব্যাপারে চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করতে বা পরাপর্শ দিতে গেলে তিনি (চেয়ারম্যান) নিজের গুন্ডা বাহিনী দিয়ে পরিষদের সদস্যদেরকে হেনস্তা করতেন। ফলে আমরা (পরিষদের সদস্য) অসহায় মানুষকে সরকারি ত্রাণ বা অন্য কোন বরাদ্ধ দিয়ে সাহায্য করতে পারি না। এছাড়া সম্প্রতি উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর হতে বরাদ্ধকৃত ১৫টি ডিপ-টিউবওয়েল পরিষদের সদস্যদের না জানিয়ে ভূয়া রেজুলেশন করে নিজের (চেয়ারম্যান) কিছু কাছের মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা (পরিষদের সদস্যগণ) এব্যাপারে সঠিক তদন্তের জন্য গত ১৭ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ আলী গণির এসব অপকর্মের বিষয়ে বিভিন্ন সোশ্যল-মিডিয়ায প্রকাশিত হলে তিনি (চেয়ারম্যান) আমাদেরকে (পরিষদের সদস্য) বিভিন্ন্ভাবে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন।
সকল অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত দাবী করে বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ আলী গণি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমি নিজের প্রাপ্ত সম্মানীটাও এলাকার অসহায়-দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছি। আপনারা (সাংবাদিক) বা যে কেউ তদন্ত করলেও এর প্রমান পাবেন। এছাড়াও প্রতি বছর আমার পরিবারের পক্ষ লক্ষ লক্ষ টাকা ও ঢেউটিন-টিউবওয়েল’সহ বিভিন্ন প্রকারের জিনিসপত্র মানুষের বিতরণ করে থাকি। আমি কেনো আতœসাৎ বা অনিয়ম-দূর্নীতি করব। আর একজন প্রবাসী হিসেবে আমি কিভাবে অন্য কাউকে হুমকি-ধামকি দেব। আমাকে ঘায়েল করে নিজেদের স্বার্থ-সিদ্ধি করার জন্য একটি মহল অপপ্রচার করছে। সঠিক তদন্ত হলে আমার নয়, অন্য সবার অপকর্ম বেরিয়ে আসবে।
অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, এব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আর সেই কমিটির তদন্ত সাপেক্ষে এব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :