বিশ্বনাথে সনদ ছাড়াই চলছে ‘কমফোর্ট ডেন্টাল কোয়ার’


alochitosnp07 প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৯, ২০২৪, ৮:১০ অপরাহ্ন /
বিশ্বনাথে সনদ ছাড়াই চলছে ‘কমফোর্ট ডেন্টাল কোয়ার’

‘ঢাল নেই-তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার’ প্রবাদ বাক্যের বাস্তব প্রতিফলন গঠিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে দীর্ঘদিনের এক ফার্মেসী কর্মচারী দাঁতের ডাক্তার সেজে অন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপসনে লিখছেন ঔষধ! ভিজিট আদায় করে নিজের ইচ্ছামতো মানুষকে দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা। সনদ ছাড়াই ‘কমফোর্ট ডেন্টাল কেয়ার’ জনসম্মুখেই পরিচালনা করে গেলেও প্রশাসন’সহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তৃপক্ষ পালন করছেন নিরব ভ‚মিকা। আর প্রশাসন’সহ স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি না থাকায় বিশ্বনাথে ‘পৌর শহর ও উপজেলায়’ এসব ভ‚য়া ডাক্তারের আধিপত্য দিন দিন বেড়েই চলছে। আর এতে জনসাধারণকে হতে হচ্ছে প্রতারণার শিকার।

সনদ না থাকলেও পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় জনসম্মুখে ‘কমফোর্ট ডেন্টাল কেয়ার’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দাঁতের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন মাহমুদুল হাসান নামের এক ফার্মেসীর কর্মচারী! ভ‚য়া ডাক্তার সেজে এক সময়ের ফার্মেসী কর্মচারী মাহমুদুল হাসান মানুষের সাথে প্রতারণা করে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ওরাল এ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার মারুফ আহমেদ (রেজি-নং ৮৯৩৪) নাম সম্মলিত প্রেসক্রিপসনে লিখছেন ওষুধও। অথচ সেই প্রেসক্রিপসনে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ডাক্তারের মোবাইল নাম্বারের পরিবর্তে ব্যবহার করছেন নিজের মোবাইল নাম্বার (মাহমুদুল)। যদিও সেই ডিগ্রিপ্রাপ্ত ডাক্তারের সদনের মেয়াদ ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তারিখে শেষ হয়ে গেছে। অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক রোগী সেজে পৃথকভাবে চিকিৎসা সেবা নিতে ‘কমফোর্ট ডেন্টাল কেয়ার’ গিয়ে এর সত্যতাও পেয়েছেন।

মাত্র ২টি বছর ‘আমিন ফার্মেসী এন্ড ডেন্টাল কেয়ারে’ কর্মচারীর চাকুরি করে যখন সেই ফার্মেসী কর্মচারী মাহমুদুল হাসান নিজেকে দাঁতের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় জনসম্মুখে ‘কমফোর্ট ডেন্টাল কেয়ার’ পরিচালনা করে যাওয়ার ঘটনায় বিশ্বনাথে কর্মরত ডিগ্রিপ্রাপ্ত ডেন্টাল ডাক্তারদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ওই প্রেসক্রিপসনে প্রতিদিন সকাল ‘সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখা হয়, লেখা থাকলেও দাঁতের এই ভুয়া ডাক্তার মাহমুদুল হাসান বলেন, ডাক্তার মারুফ আহমেদ সপ্তাহে দু’দিন রোগী দেখেন। তাছাড়া তিনি দাবি করেন বিশ্বনাথে তার (মাহমুদুল হাসান) আরোও অনেকেই দাঁতের চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন।

এদিকে ভ‚য়া দাঁতের ডাক্তার ও সাবেক ফার্মেসী কর্মচারী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম-দূর্নীতির ও প্রতারণার অভিযোগ এনে বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায়ের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশনপ্রাপ্ত ৫ জন চিকিৎসক।

এবিষয়ে ‘আয়েশা ডেন্টাল কেয়ার’র সত্ত¡াধিকারী ডাক্তার ফরহাদ আহমদ বলেন, মাহমুদুল হাসান সিলেটের একটি ল্যাবের কর্মচারী ছিলো। একপর্যায়ে সে বিশ্বনাথে ‘আমিন ফার্মেসী এন্ড ডেন্টাল কেয়ারে’ কর্মচারী হিসেবে চাকুরি করতো। আমার জানামতে দাঁতের চিকিৎসক হিসেবে তার কোনো সনদ নেই। আর যদি সে অন্য কোন ডাক্তারের প্রেসক্রিপসন ব্যবহার করে চিকিৎসা দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে জেল জরিমানা হওয়ার কথা।

জানতে চাইলে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দেলোয়ার হোসেন সুমন বলেন, অন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপসন ব্যবহার করে যদি কেউ চিকিৎস্যা দেন তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক সুনন্দা রায় বলেছেন, আজ (বুধবার) একজন ডাক্তার আমার কাছে এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমি অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দেলওয়ার হোসেন সুমনকে দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্তে প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।