
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সিলেটের বিশ্বনাথে চলতি মৌসমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে মাঠে চলছে বোরো ধান কর্তন। প্রান্তিক কৃষকেরা ভোর থেকে রাতে চাঁদের আলোয়ও ক্ষেতের ফসল গোলায় তোলায় মহা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভাল ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখে আনন্দের ঝিলিক বইছে। সময়ে সময়ে বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় না থাকায় বোরো উৎপাদনে বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৭ হাজার ২৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। হাইব্রিড প্রজাতির ধানের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান ৮৯, ৯২, ও ৭৪ জাতের ধান চাষ করা হয়। ইতি মধ্যে ৭% বোরো ধান কাটা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলার প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকদের মাঝে এবছর সার ও বীজ সরকারি প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। ২৪-২০২৫ অর্থ বছরে মৌসুমের শুরুতে ১ হাজার ১শত কৃষককে ২ কেজি করে এসএল৮এইছ জাতের বোরো বীজ, ৩ হাজার ২ শত কৃষককে ৫ কেজি করে ব্রি ধান ৮৯, ব্রি ধান ৯২, ব্রি ধান ৭৪ জাতের বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমপিও সার উপকার ভোগী কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
বিশ্বনাথ পৌর শহরের হরিকলস গ্রামের কৃষক সুমেল মিয়া বলেন, এবছর ১৬ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি কিন্তু রমজানে ঝড়োহাওয়াসহ হালকা শিলাবৃষ্টিতে ৩ ভাগের ১ভাগ ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তবে আশা করছি ফসল ঘরে তুলে লাভবান হবো। আমাদের জমিতে কম্বাইন রাইস হার্ভেস্টার মেশিন নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ৬০০/৭০০ টাকা রোজে শ্রমিক নিয়ে ফসলী জমিতে ধান কাটছি। আমরা যদি সরকারি ভাবে প্রণোদনা পাই তাহলে বোরো চাষে আরও লাভবান হবো।
অলংকারী ইউনিয়নের মালেক মিয়া বলেন, এবছর বোরো ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে, আমি ৫/৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। কিন্তু শ্রমিক সংকটে থাকায় ৬০০/৭০০ টাকা রোজে ২জন শ্রমিক ও পরিবারের সবাইকে নিয়ে ধান কেটে ফসল গোলায় তোলার চেষ্টা করছি। তবে খরচ পুশিয়ে তেমন একটা লাভবান হবেন না, বর্তমান বাজারে ধান প্রতি কেজি ২২ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। যদি প্রতি কেজি ৩০টাকা হতো তাহলে ভাল লাভবান হতাম। আমি কোন সরকারী প্রণোদনা পাইনি, যদি সরকারি প্রণোদনা পাইতাম তাহলে আরও লাভবান হতে পারতাম।
উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের রাজু চৌধুরী বলেন, আমি প্রায় ৩ বিগা জমিতে বোরো ধান চাষ করছি। শ্রমিক সংকটে থাকার কারণে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ফসলী জমিতে ধান কাটতে হচ্ছে। আশা করছি এবার ভাল ধান পাওয়া যাবে। তবে সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি কাজে মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আমি এখনও কোন সরকারি প্রণোদনা পাইনি, সরকারি প্রণোদনা পেলে হয়তো আরও লাভবান হতাম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, চলতি বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় কৃষকরা আশাতীত জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। বোরো ধান বুটিং স্তরে থাকা অবস্থায় বৃষ্টিপাত হওয়ায়, ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব কমেছে এবং একি কারণে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে আগাম জাতসমূহ ব্রি ধান ৭৪, এসএল৮এইছ সহ অন্যান্য হাইব্রিড ধানের জাতসমূহ কর্তন করা হচ্ছে। যেসব জাত কর্তন করা হয়েছে সেগুলোর গড় ফলন ৬.২০ টন/হেক্টর পাওয়া গেছে। আশা করি ভালো ধান পাওয়া যাবে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় এবং বোরো ধান ৮০ ভাগ পরিপক্ক হলেই কর্তনের জন্য অনুরোধ জানানো হলো।
আপনার মতামত লিখুন :