বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের গেজেট বাতিল করে ভোট পুনঃগণনার দাবীতে ট্রাইবুন্যালে মামলা


alochitosnp07 প্রকাশের সময় : জুন ৬, ২০২৪, ৭:৪২ অপরাহ্ন /
বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের গেজেট বাতিল করে ভোট পুনঃগণনার দাবীতে ট্রাইবুন্যালে মামলা

সিলেটের বিশ্বনাথে গত ৮মে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের গেজেট বাতিল করে ও বিভিন্ন এলাকার ১২টি ভোট কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনার দাবীতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৩ জুন সিলেটের ‘যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত ও নির্বাচনী ট্রাইবুন্যালে’ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রবাসী প্রার্থী সেবুল মিয়ার পক্ষে তারই আমমোক্তার তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। নির্বাচনী মামলা নং ০১/২০২৪ইং।

নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী সুহেল আহমদ চৌধুরী’কে প্রধান অভিযুক্ত করে দায়ের করা মামলায় ‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব, নির্বাচনের রিটাণিং কর্মকর্তা (বিশ্বনাথ) ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, সহকারী রিটার্ণিং কর্মকর্তা (বিশ্বনাথ) ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বর্ণালী চক্রবর্তী, প্রবাসী প্রার্থী সেবুল মিয়ার সাথে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীর অপর ৮ প্রার্থী এবং নির্বাচনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ১২ কর্মকর্তাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলা লিখিত এজাহারা বাদী উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের দিন (৮মে-২০২৪ইং) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিপুল উৎসাহ ও উদ্দিপনার সাথে উপজেলার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭ জন ভোটারের মধ্যে ৬০ হাজার ৪১৯ জন ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তবে নির্বাচনের কতেক ভোট কেন্দ্রের ফলাফল সিটে বা গণনা সিটে ভোট গণনার বহু পূর্বেই বাদীর এজেন্টদের স্বাক্ষর গ্রহন করে, তাদেরকে ভোট কেন্দ্র থেকে বাহিরে বের করে দেওয়া হয়। এরপর প্রবাসী প্রার্থী সেবুল মিয়ার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ জোরপূর্বক ‘দোয়াত-কলম’ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দিয়ে ‘প্রবাসী ও মৃত ব্যক্তির’ নামে জাল ভোট প্রদান’সহ ২/৩ জন মহিলাকে দিয়ে বোরকা পরিবর্তন করে একাধিক জাল ভোট প্রদান করেছেন। আবার কেউ আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে জিম্মি করে জাল ভোট প্রয়োগ করেছেন। বাদী বিষয়গুলো সহকারী রিটার্ণিং কর্মকর্তাকেও সাখে সাথে অবহিত করেছেন। তবে তাতে কোন কাজ হয়নি, বরং বাদীর সুনিশ্চিত বিজয় আটকানো হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার সময় কিছু ভোট কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনার দাবী করা হলে নির্বাচনের রিটার্ণিং ও সহকারী রিটার্ণিং কর্মকর্তা’সহ উপজেলা ও থানা প্রশাসনের লোকজন বাদীর অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো রাত ১২.৪৫ মিনিটের দিকে বেআইনী ও যোগাযোগী মূলে মামলার প্রধান অভিযুক্তকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অথচ ওই দিন অনুষ্ঠিত সিলেটের অন্যান্য উপজেলার নির্বাচনের ফলাফল রাত ৯টার মধ্যে ঘোষণা করা হয়। উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে ৮মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল ও ১৪মে প্রকাশিত গেজেট বাতিল করে ১২টি ভোট কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনা করে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার দাবী জানিয়েছেন।

বাদীর অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবী করে মামলার প্রধান অভিযুক্ত ও নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, জনগণের জনরায়ে আমি নির্বাচিত হয়েছি। জাল ভোট প্রয়োগ কিংবা কালো টাকার ছড়াছড়িতে আমি বিশ্বাসী নই। আমার বিজয় ঈর্শ্বানিত হয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে (৩য় স্থানে) থাকা প্রার্থী মামলাটি দায়ের করেছেন আমাকে অজতা হয়রাণী করার উদ্দেশ্যেই।