
মানুষের ঢলে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের মিয়ারবাজারের নিকটস্থ বিষ্ণুপুর সিদ্ধ বকুলতলা ধামে শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের ৩ দিনব্যাপী (১১, ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারী) অন্তর্ধান মহোৎসব বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শত শত বছর পূর্ব থেকে প্রতি বছরের মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে ওই মহোৎসব পালন করে আসছেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। সনাতন ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মালম্বী লোকজনের উপস্থিতিও মহোৎসব এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের গন্ডি পেরিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সনাতন ধর্মালম্বীরা এসে ওই মহোৎসবে যোগদান করেছেন। মনবাসনাপূরণের জন্য কেউ কেউ আদায় করেন মানস, অনেকেই আবার নতুন করে মানস করে গেছেন।
জানা গেছে, চৌষট্টি মোহান্তের অন্যতম শ্রীল নারায়ন বাচস্পতির পুত্র শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় প্রায় ৫শত বছর পূর্বে গৌরভূমি শ্রীহট্টে আসিয়া বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে শ্রীপাট স্থাপন করে শ্রীভ‚মির তাপিত মানুষকে শ্রীচৈতন্যের নাম ও প্রেমের পথে সঞ্জীবিত করিয়া মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে সিদ্ধ বকুল বৃক্ষে লীন হন। শত শত বছর পূর্ব থেকে প্রতি বছরের মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে ওই মহোৎসব পালন হয়ে আসছে।
মহোৎসবস্থল পরিদর্শন করেন ও বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায়, থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) রুবেল মিয়া, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মানিক লাল দে, মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রদীপ কুমার দেব, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক জি ডি রুমু, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য নিশি কান্ত পাল, রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নবেন্দ্যু জ্যোতি দে, কোতোয়ালী থানা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট অরবিন্দু দাশ গুপ্ত, উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিভাংশু গুন বিভু।
শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় ধাম সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রহলাদ চন্দ্র দে’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শংকর দাস শংকু’র পরিচালনায় পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভাগুলো বক্তব্য রাখেন ধাম সংরক্ষণ কমিটির উপদেস্টা মন্ডলীর সদস্য শান্ত গোস্বামী, ডা. দিব্যা রঞ্জন দেব, সহ সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র দে, যুগ্ম সম্পাদক সজল দেব, নেপাল দেব, জিতেন্দ্র দেবনাথ, অর্থ সম্পাদক কালীরঞ্জন দেবনাথ, সহ অর্থ সম্পাদক নন্দ লাল বৈদ্য, সদস্য নির্মল কুমার দাশ, অনাথ রাম বৈদ্য, করুনা বৈদ্য, সুব্রত ধর বাপ্পী, বিমল রায়, নীলকান্ত রুদ্র পাল, আশীষ কুমার দেব, প্রনবীর পাল নীলু, রঞ্জু মালাকার, শিপন আচার্য্য, উকিল বৈদ্য, লিপন দেব রিপন, বিমল দেবনাথ, কাজল শীল।
শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের অন্তর্ধান মহোৎসব ‘সরকার ও প্রশাসন’সহ সমাজের সর্বমহলের সার্বিক সহযোগীতা ও উপস্থিতিতে সুষ্ট, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় সিদ্ধ বকুলতলা ধাম সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রহলাদ চন্দ্র দেব ও সাধারণ সম্পাদক শংকর দাস শংকু।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯টায় শ্রীশ্রী কালাচাঁদের অর্চ্চনার মাধ্যমে মহোৎসব শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯টায় শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন সমর্পন (পুর্ণা)’র মাধ্যমে শেষ হয়। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারী) ব্রাক্ষমুহুর্ত থেকে শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন পরিবেশন এবং দুপুর ২টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ শুরু হয়। মহোৎসবে শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন পরিবেশন করেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মদনপুরের সোনার গৌর সম্প্রদায়ের বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলার শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য সংঘের নিরঞ্জন দাস, সিলেটের দাড়িয়াপাড়ার নিশিকান্ত তালুকদার, জকিগঞ্জ উপজেলার বড়চালিয়ার বিধান ধর।
আপনার মতামত লিখুন :