বিশ্বনাথে সরঞ্জাম’সহ আটক মুমিন ডাকাত


alochitosnp07 প্রকাশের সময় : মার্চ ১, ২০২৫, ৭:০৫ অপরাহ্ন /
বিশ্বনাথে সরঞ্জাম’সহ আটক মুমিন ডাকাত

গত কয়েক দিন ধরে ডাকাত আতঙ্ক থাকা সিলেটের বিশ্বনাথে অবশেষে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাতে ডাকাতির সরঞ্জাম’সহ আব্দুল মুমিন (২৮) নামের একজনকে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের মিয়ার বাজার থেকে আটক করেছে থানা পুলিশ। সে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাঠলি গ্রামের আব্দুল আহাদের পুত্র। তবে এসময় আটককৃত আব্দুল মুমিনের সাথে থাকা একই উপজেলার ইকরইরচর গ্রামের মৃত নসির মিয়ার পুত্র রাসেল আহমদ (৩২) দৌড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এসময় পুলিশ আটকৃত মুমিনের কাছ থেকে ‘সাদা-কালো চেক কাপড়ের ও হলুদ কাপড়ের ২টি মুখোঁশ, ১টি রামদা, ১টি ধারালো কুড়াল, ১টি রেঞ্চ, ১টি তালা ভাঙ্গার কাটার ও তাঁলা ভাঙ্গার লোহার একটি বাঁকা শাবল’ উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১ মার্চ) আটককৃত ডাকাত আব্দুল মুমিন’সহ অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানার এএসআই ফুল মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ১ (তাং ১.০৩.২৫ইং)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বনাথে ডাকাত ঢুকছে এমন সংবাদ শুক্রবার রাত ৮টা থেকেই উপজেলার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমানীনগর সার্কেল মো. আশরাফুজ্জামান’সহ থানার ওসি ও পুলিশ সদস্যরা চারদিকে টহল বাড়ায়। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় ও উপজেলার ৮ ইউনিয়ন পরিষদের সকল চেয়ারম্যান-মেম্বাররা নিজ নিজ এলাকায় যুব সমাজকে নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেন। রাত সাড়ে ১২টায় বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কে যাত্রী ছব্দবেশে দুই ব্যক্তিকে সন্দেহ করে পুলিশ তাদের পিছু নেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিয়ার বাজার নামক স্থানে মুখোশধারী ২ জন দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুমিনের কাছ থেকে আরও ৪-৫ জন ডাকাতের নাম পেয়েছে থানা পুলিশ। শনিবার দুপুরে মামলা রুজু করে আটককৃতকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার পর পুলিশের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মসজিদে ডাকাত প্রবেশের মাইকিং করলে উপজেলার সর্বত্র এমন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সাথে নিয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান নিজেই ছুটে যান বিশ্বনাথে। এছাড়াও থানা পুলিশের সাথে দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে পুরো উপজেলায় লোকজনও ছিলেন পাহারাদার। 

ডাকাতির সরঞ্জাম’সহ ডাকাত আব্দুল মুমিনকে গ্রেপ্তারের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, এব্যাপারে পুলিশ বাদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় মুমিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি ডাকাতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।