
সিলেটের বিশ্বনাথে দুই ছাত্রনেতার দ্বন্দ্বের বিষয়টি মিমাংশা করার জন্য অনুষ্ঠিত সালিশ থেকে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই জের ধরে বুধবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর শহরের কালীগঞ্জ বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এসময় একটি প্রাইভেট কার’সহ বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হলেও কারও নাম প্রকাশ করেননি উভয় পক্ষের লোকজন।
এরপর খবর পেয়ে থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার পর কালীগঞ্জ বাজারে ছাত্রনেতা এনামুল ইসলাম ও দেলোয়ার হোসেন লিটনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হাতাহাতির ঘটনা সংগঠিত হয়। এর জের ধরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকলে কালীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ’সহ ব্যবসায়ী নেতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তা আপোশ-মিমাংশায় শেষ করার জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠকে বসেন। কালীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এক পক্ষের উচ্চ সুরে ও উশৃঙ্খল শব্দ ব্যবহারের ফলে বিষয়টি শেষ না হওয়ার পথে গিয়ে, উল্টো বড় আকার ধারণ করে। আর এরই সূত্র ধরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে বাজারে আতংঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘসময় বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এসময় বাজারে থাকা প্রবাসী শরিফুল ইসলামের প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্টো-গ ১১-৫৩১১) ও বেশ কিছু দোকান-পাঠ ভাংচুর করা হয়।
এব্যাপারে বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা এনামুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) একটি অনুষ্ঠিনে যোগ দিতে কালীগঞ্জে আসবেন সিলেট-২ আসনের আগামী দিনের ধানের শীষের কান্ডারী ও ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা। আর সেই প্রোগ্রাম যাতে সাকসেস হয় সেলক্ষ্যে ছাত্রদল-যুবদলের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বাজারে প্রচারণামূলক কার্যক্রম করি। আমি (এনামুল) কেন সেই প্রোগ্রাম সাকসেস করার জন্য কাজ করছি, মোটর সাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিয়ে দেলোয়ার হোসেন লিটন আমাকে জিজ্ঞাসা করে গালিগালাজ শুরু করে। এরপর দেলোয়ারের দাদা বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক বিষয়টি শেষ করার জন্য তার অফিসে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে আমার সাথে খারাপ আচরণ শুরু করেন। আমি এর প্রতিবাদ করায় সে (দেলোয়ার)’সহ তার চাচা দবির মিয়া মেম্বার অফিসের সাটার লাগিয়ে আমাকে মারধর শুরু করেন। এরপর আমার আত্নীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী খবর পেয়ে আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। কেউ তাদের বিরুদ্ধে গেলেই বাজারের সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক তার সাঙ্গ-পাঙ্গকে নিয়ে প্রায়ই এলাকার বিভিন্ন মানুষকে অন্যায়ভাবে টর্চার করেন। তাই আজ (বুধবার) এর সঠিক জবাব দিয়েছেন এলাকাবাসী।
এনামুলের আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবী করে দেলোয়ার হোসেন লিটন বলেন, ঘটনার সময় আমি বাজারেই ছিলাম না। তাছাড়া ম্যাডাম (তাহসিনা রুশদির লুনা) আসছেন আমাদের পরিবারের প্রোগ্রামে, আমি কেনো তাককে সেখানে বাঁধা দেব। আর বৈঠকেও কেউ তাকে আটকে রাখেননি কিংবা হামলা করেননি। নিজের অন্যায় লুকাতে সি মিথ্যাচার করছে।
ভাংচুরকৃত প্রাইভেট কারের মালিক প্রবাসী শরিফুল ইসলাম বলেন, বিগত সময় কালীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ‘মাদক ও দেহ ব্যবসা’র সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে যাদেরকে শাস্তি দিয়ে ছিলেন তারাই আজ (বুধবার) বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর শেল্টার নিয়ে কালীবাড়ির কাছে পার্ক করে রাখা আমার গাড়িটি ভাংচুর করেছে। তবে কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে কালীগঞ্জ বাজারে মাদক-দেহব্যবসায়ীরা থাকতে পারবেন না। এমনকি যারা তাদেরকে শেল্টার দিবে তারাও বাজারে আসতে পারবেন না। সর্বশক্তি দিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে।
কালীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার আঙ্গুর মিয়া বলেন, বহিরাগতদের উপস্থিতিতিতে বাজারে উত্তেজনা দেখে আমি সভাপতিকে সাথে নিয়ে তাদের কাছে গিয়ে সবাইকে শান্তনা দিয়ে বিষয়টি বসে দেখার কথা বলি। সভাপতির অফিসে বসার পর এনামুল রাগাণি¦ত স্বরে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে সেখান থেকে চলে গিয়ে তার সাথের লোকজনকে নিয়ে এসে অফিসে হামলা করে। সেখানে থাকা বিশ্বনাথের নেতাকর্মীরাও বিষয়টি কন্ট্রোল করতে পারেননি।
ছাত্রনেতা এনামুলের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কালীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দবির মিয়া মেম্বার বলেন, খবর পেয়ে বাজারে এসে দেখি বহিরাগত ও তার আত্নীয়-স্বজনদের সাথে নিয়ে এনামুল বাজারে মহড়া দিচ্ছে। বৈঠকে বসার পর সে কোন প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে না দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে তার সাথের অন্যান্যদের নিয়ে এসে অতর্কিতভাবে হামলা করে। তারা বাজারে মাদক ও দেহ ব্যবসা করার জন্য বাজারে ওই অরাজকতা সৃষ্টি করছে।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত) শান্ত রয়েছে। ওই এলাকায় পুলিশী টহল অব্যাহত রয়েছে। তবে কোন পক্ষই এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
আপনার মতামত লিখুন :