
উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষনের কারণে চলমান বন্যায় কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের বাওনপুর, মুছেধর, ছরগাঁও, হোসেনপুর, ঘাষিগাঁও, পাহাড়পুর, লামাকাজি ইউনিয়নের মির্জারগাওসহ ১নং ও ২নং ওয়ার্ডে কয়েকটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানিতে দেওকলস ও দশঘর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।
এসব জমিতে রয়েছে আউশ ধান, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এই নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানিয়েছে, বন্যায় পানির নিচে তলিয়ে আছে ফসলের জমি। পানি শিগগিরই নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে ফসল হারিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা নেমে এসেছে। বেশির ভাগ কৃষক এনজিও, ব্যাংক থেকে ঋণে টাকা এনে ধানের আবাদ করেছে। এখন বন্যায় ফসলহানিতে তারা দুই চোখে অন্ধকার দেখছে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে বন্যার কবলে পড়ছেন কয়েকটি আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা। অনেক পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ইতিমধ্যে। এ পর্যন্ত শতাধিক গ্রাম, বিভিন্ন আশ্রয়ন ও গুচ্ছ গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে । প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে । উপজেলার সবচেয়ে আক্রান্ত লামাকাজি ইউনিয়ন ও খাজাঞ্চি ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি ১১ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দের খবর ও নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার।
এবিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, এবছর ৪২৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আউশ ধান রোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।এর মধ্যে আউশ ধান ১৬৫ হেক্টর, বীজতলা ২৫ হেক্টর এবং শাকসবজি ১৬ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
বন্যায় এখন পর্যন্ত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষয় ক্ষতির সঠিক পরিমান এই মূহুর্তে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পানি নামার পর চুড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে সরকারি দপ্তরে প্রেরণ করা হবে। এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদান করার প্রক্রিয়া শুরু হবে এক প্রশ্নের জবাবে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায়।
আপনার মতামত লিখুন :