বিশ্বনাথে ভারতীয় চিনি জব্দ, আটক ১


alochitosnp07 প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৫, ২০২৪, ৮:০৫ অপরাহ্ন /
বিশ্বনাথে ভারতীয় চিনি জব্দ, আটক ১

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া ২৫০ বস্তা ভারতীয় চিনি বোঝাই সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্টো-ট ১৪-০৭৬২) সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের জানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে শুক্রবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধার করেছে সিলেটের বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। এসময় কাভার্ড ভ্যান থেকে চিনি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ (সিলেট মেট্টো-ন ১১-০৫৫১) জব্দ করে এবং পিকআপ চালক রুমান আহমদ’কে আটক করে। আটককৃত রুমান বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের দশদল গ্রামের জুনাব আলীর পুত্র। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এসময় অন্যান্য চোরকারবারী বা ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত থাকা ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জৈন্তা উপজেলার ছালেহ আহমদ নামের এক ব্যবসায়ী তামাবিল স্থল বন্দর থেকে বিজিবির নিলাম করা ২৫০ বস্তা ভারতীয় চিনি ক্রয় করে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে ঢাকায় প্রেরণ করেন। শুক্রবার (৪ অক্টেবর) রাতে চিনি’সহ কাভার্ড ভ্যান ঢাকায় যাওয়ার পথিমধ্যে হবিগঞ্জে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি এলাকা চিনি বোঝাই কাভার্ড ভ্যানটি ছিনতাই করে বিশ্বনাথে নিয়ে আসা হয়। বিশ্বনাথ পৌর শহরের জানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে কাভার্ড ভ্যানটি রেখে একটি পিকআপের মাধ্যমে সেই চিনির বস্তাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় পুলিশ সেখানে হানা দেয়। এসময় পুলিশ কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ থেকে ১৬৮ বস্তা চিনি এবং জানাইয়া (দক্ষিণ মশুলা) গ্রামের আসক আলীর বাড়ি থেকে আরোও ৩৬ বস্তা ভারতীয় চিনি উদ্ধার করে। তবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পূর্বেই ছিনতাইকারী বা চোরাকারবারী ৪৬ বস্তা ভারতীয় চিনি অন্যত্র সরিয়ে পেলে। এরপর উদ্ধারকৃত প্রায় ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের চিনি, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ জব্দ ও পিকআপ চালককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এব্যাপারে জানাইয়া গ্রামের আসক আলী জানান, চিনি ছিনতাই করে সরিয়ে নেয়ার খবর জানতে পেরে আমি বিষয়টি একজন সাংবাদিককে জানাই। আর এবিষয়টি জানতে পেরে থানার এএসআই আবু সালেহ আমার সাথে রফা করতে বসতে চান। আমি বসতে অপারগতা প্রকাশ করলে পুলিশ এসে চিনি জব্দ করে। আমি বিষয়টি ধরিয়ে দেয়ার কারণেই এএসআই আবু সালেহ আমার বাড়িতে লোক দিয়ে চোরাই চিনি রেখে উদ্ধার দেখিয়ে আমাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করছেন।  

আসকের অভিযোগ অস্বীকার করে থানার এএসআই আবু সালেহ বলেন, আমি ও আমার টিমের মাধ্যমেই চোরাই চিনি উদ্ধার, দুটি গাড়ি জব্দ ও একজনকে আটক করা হয়েছে। তাহলে আমার সম্পৃক্ততা থাকে কি করে? জানাইয়া গ্রামে চিনি আনলোডের খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে চিনি উদ্ধার করে আনি। যিনি অভিযোগ তুলেছেন, তার বাড়ি থেকেও চিনি উদ্ধার হয়েছে। সেই বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।

২০৪ বস্তা ভারতীয় চিনি, সুন্দরবন কুয়িরায় সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যান ও একটি পিকআপ জব্দ এবং পিকআপ চালক রুমান আহমদ’কে আটকের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ পুলিশ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) রুবেল মিয়া বলেন, চিনি, কাভার্ড ভ্যান ও নিলামের কাগজসহ আদালতে প্রেরণ করা হবে। আদালতের নির্দেশনা মতেই এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে, তবে ছিন্তাইয়ের ঘটনায় আলাদাভাবে মামলা দায়ের করা হবে। ঘটনার সাথে কারা কারা জড়িত আছেন তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। আর পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগটিও খতিয়ে দেখা হবে।

এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) আশরাফুজ্জামান বলেন, চিনি’সহ গাড়ি দুটি জব্দ ও একজনকে আটকের বিষয়টি জানতে পেরেছি। আউশকান্দিতে ছিনতাই হওয়া গাড়ি কিভাবে বিশ্বনাথে আসলো, এতে কারা জড়িত বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। আর কোন পুলিশ সদস্য এঘটনায় জড়িত কিংবা চিনি চোরাচালানে সহযোগিতা করার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।