
সালমান হোসেন,জুড়ী প্রতিনিধিঃ
নিষিদ্ধ সময়ে হাকালুকি হাওরে মাছ ধরায় দুই মাসে ৫ টি বড় অভিযান পরিচালনা করেছে জুড়ী মৎস্য অফিস। অভিযানে প্রায় ৭০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার মিটার জগৎ বেড় জাল জব্দ করা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টি টপচাই পুড়ানোর পাশাপাশি ৪০ কেজি পোনা মাছ উদ্ধার এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে । জালগুলোর মূল্য আনুমানিক ১৪-১৬ লাখ টাকা হবে বলে জানা গেছে।
জুলাই -আগস্ট এই দুই মাসে অভিযানে এসব জাল জব্দ করা হয়।
মৎস্য আইন অনুযায়ী, ফাল্গুন থেকে শ্রাবণ মাছ পর্যন্ত এই সময়ে মাছ ডিম দেয়, ডিম থেকে ফুটে বাচ্চা হয়। এই সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ।
এ কারণে বিভিন্ন সময় হাকালুকি হাওরে অভিযান করে মৎস্য অফিস।
শনিবার ভোরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো মনিরুজ্জামানের সহযোগিতায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রতন কুমার অধিকারীর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২০০ টি টপচাই জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
এর আগে ২৭ জুলাই জায়ফর নগর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম এলাকার হাকালুকি হাওর থেকে ১১ হাজার মিটার (৪টি) জগৎবেড় জাল,টপছাই ২০০০ টি,কারেন্ট জাল ১০ হাজার মিটার, ৫ টি ম্যাজিক জাল জব্দ করা হয়।
জানা যায়, নিষিদ্ধ সময়ে হাকালুকি হাওরে বেড় জাল, কারেন্ট জাল, টপচাই দিয়ে জেলেরা মাছ ধরেন।
এদের মধ্যে টপচাই, কারেন্ট জাল ও ম্যাজিক জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। বেড় জাল দিয়ে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। গত দুই মাসে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানে এসব জাল জব্দ করা,বিনষ্ট করার কারণে অন্যান্য বছরের চেয়ে হাকালুকিতে এ বছর মাছের উৎপাদন বেশি হবে বলে ধারনা করছেন বিলের ইজারাদাররা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো মনিরুজ্জামান বলেন, পোনা মাছ মারা ও ডিমযুক্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ জন্য এসব জাল জব্দ করা হয়েছে, এগুলো আগুন দিয়ে পোড়ানো হবে।নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কারণে এই সময়ে মাছ ধরা বন্ধ করা গেলে মাছের উৎপাদন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকাংশে বেড়ে যাবে। এই মাসে ছোট অভিযানের পাশাপাশি তিনটি বড় অভিযান ও দুইটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। ৪০ কেজি মরা পোনা মাছ উদ্ধার করা হয়েছিল সেগুলো বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :