বিশ্বনাথে ঈদ বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়!


alochitosnp07 প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৬, ২০২৩, ১২:১১ অপরাহ্ন /
বিশ্বনাথে ঈদ বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আর মাত্র ক’দিন পরেই ঈদ, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে যেন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। প্রবাসী অধ্যষিত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্য মন্ডিত, দেশের সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণ করা, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলাকেই বলা হয়ে থাকে ২য় লন্ডন শহর।

এভারের ঈদকে সামনে রেখে বিশ্বনাথের ব্যবসায়ীরা সারা বছরের মান্দাভাব কাটিয়ে, দোকানে প্রচুর পরিমান মূলধন দিয়ে মালামাল মজুত করে ঈদ আয়োজনে মহাযজ্ঞে শামিল হতে প্রস্তুত। উপজেলার প্রতিটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায় সকল শপিং মল, বেলুন ও লাল, নিল, সাদা রঙ্গিন বাতিতে সাজসাজ রব এবং সবকয়টি মার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি জমজমাট। বিশ্বনাথ উপজেলার ‘আল হেরা মার্কেট আর স্থানীয় বাজারের অনেক ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর রমযানের শুরু থেকে ঈদ বাজারের প্রভাব দেখা দেয়। কিন্তু গত বছর তার উল্টো ছিল। কেনা বেচায় ধ্বস নামছিল। এভার গত বছরের লস কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তারা জানান। প্রতিটি দোকানে বিপুল পণ্য মজুদ দেখা যাচ্ছে। বিশ্বনাথের অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা সারা বছর চেয়ে থাকেন ঈদের মার্কেট আসবে বলে। তারপরও উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বুক বেঁধে আশায় আছেন। রমযান শুরু থেকে ঈদের শেষ পর্যন্ত ব্যবসা চাঙ্গাও থাকবে। আর বেচাবিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা। সরজমিনে বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, কেনাকাটার আবহ বইছে। আল হেরা শপিং সিটি মার্কেটে বিশাল ভিড়। বেশির ভাগ দোকানে ক্রেতাদের ভিড় জমে আছে । অনেক ক্রেতাদের দেখা যাচ্ছে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে ঘুরছেন। কিন্তু দামে সন্তুষ্ট নন অনেকেই। কেউকেউ অভিযোগ করে বলেন মার্কেটে ঈদের সময় আসলেই জুতার দাম বেশি হয়ে যায়, বিশেষ করে, জামদানী শাড়ী, থ্রি-পিস, শার্ট, পেন্ট, বাচ্ছাদের পোশাকসহ বিভিন্ন পোশাক সামগ্রীর দাম আকাশ ছোয়াঁ। তবে এমন অভিযোগ অনেক ব্যবসায়ীরা মেনে নিচ্ছেন, আবার অনেকেই মেনে নিচ্ছেন না। তারা বলেছেন ঈদের বাজারে দাম ঠিক রাখার উপায় নেই। চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী বেচাকেনা হয়। এ বিষয়ে ক্রেতা কাওছার আহমদ বলেন, আমরা ঈদ আসলেই অপেক্ষায় থাকি পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাটা করবো কিন্তু ঈদের সময় ব্যবসায়ীরা দাম বেশি বলেন, রমজান ঈদের সময় যেন ব্যবসায়ীরা ১১ মাসের মুনাফা তুলে নিতে চান, আমাদের কাছ থেকে। প্রতি বছরের নেয়ায় এভার স্বল্প আয়ের মানুষের ফুটপাতই ভরসা। বাজারে শাওন বস্ত্রালয় দোকানের ব্যবসায়ী শংকর দাশ শংকুকে বিক্রি কেমন হচ্ছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এভার ক্রেতা প্রচুর, আশারাখী রমজান শেষ পর্যন্ত ভালো হবে। আজকে ২৪ রোজা কিন্তু গতবছরের তুলনায় এভারের এ সময়ের বেচাকেনা বেশি। মার্কেটের নিছ তলায় ক্রেতাদের ভিড়। দোকানে পাওয়া একজন ক্রেতা সুহেব মিয়া বলেন ছুটির দিনে দোকানে ভিড় বাড়তে পারে, তার মধ্যে এভারের কেনাকাটা বেশি তাই ঝামেলাও বেশি। নিরিবিলি ভাবে জুতা ক্রয় করতে আসছি কিন্তু দামটা অনেক বেশি। বিশ্বনাথের পুরানবাজারের কাপড় আমদানিকারক প্রতিষ্টান নাঈমা শাড়ী সেন্টার এর প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আবুল কাহের জানান দেশি কাপড়ের চাহিদা অনেক কম হওয়ায়, বাজারে আমাদের দেশিও কাপড়ের ব্যবসা অনেক কমে গেছে। তবে আমরা আশাবাদী এভার ঈদে ব্যবসা ভালো হবে। কোন কাপড়ের চাহিদা বেশি জানতে চাইলে এ ব্যবসায়ী জানান, দামে বেশি বিদেশী ভারতের সারারা, গারারা, রারাসহ বিভিন্ন নামের চায়না কাপড়ের চাহিদা একটু বেশি।

এ বিষয়ে কথা হলে  বিশ্বনাথ থানা অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) গাজী আতাউর রহমান বলেন, অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবার ঈদে আনন্দের সহিত বিশ্বনাথ উপজেলাবাসী কেনাকাটা করছে এবং বাজারের বিভিন্ন মার্কেটে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে।