
টুংটাং শব্দ আর ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প কালের বিবর্তনে ও আধুনিক যন্ত্রপাতির দাপটে বিলুপ্তির পথে। পূর্বপুরুষদের পেশাকে আঁকড়ে ধরে আজও কোন মতে টিকে আছেন সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরশহরে হাতেগোনা ৩ থেকে ৪ জন কামার শিল্পী। তবে আধুনিকায়ন আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই শিল্পের কারিগররা। অচিরেই সরকারিভাবে কোন পদক্ষেপ না-নিলে বিলুপ্ত হয়ে যাবে গ্রামবাংলার অতি প্রাচীন এই লোকজ সংস্কৃতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বনাথের পুরান বাজার ও নতুন বাজারে একসময় কামারদের হাতুড়ির টুংটাং আর নেহাইয়ের শব্দে মুখরিত থাকত চারপাশ। বর্তমানে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে লৌহজাত সামগ্রী ˆতরি হওয়ায় কামারদের হাতে ˆতরি দা, বঁটি, কোদাল ও ছুরির চাহিদা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তবে, কোরবানীর ঈদকে ঘিরে কিছুটা আয় বাড়ে তাদের।
স্থানীয় কামার শিল্পী কালা চান জানান, জীবন-জীবিকার তাগিদে তারা এখনো এই পেশা ধরে রেখেছেন। কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের ˆদনিক আয় মাত্র পাঁচশত টাকা। যার কারণে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই বাজারে নামমাত্র এই আয়ে পরিবার চালানো তাঁদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে কামার শিল্পে কাজ করে যাচ্ছেন অধির চন্দ্র ধর। তিনি বলেন, আমার দাদা, বাবার এই পেশাকে ধরে রাখতে আমরা আজও অনেক কষ্টে মধ্যে কাজ করে যাচ্ছি। কামার শিল্প পেশায় অনেক ঝুঁকি রয়েছে, এ পেশা বর্তমানে যারা আছে তাদের অনেকের হার্ডের সমস্যা, চোখের সমস্যাসহ শরীরের বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। পেটের দায়ে মন না চাহিলেও প্রতিদিন এই কাজ বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে কাজ। আমরা সরকারি ভাবে আজও কোন সহযোগিতা পাইনি। অন্য কোন কাজ জানা না-থাকার কারণে সব কষ্ট ভুলে এই কাজ করতে হচ্ছে আমাদের। আয় রোজগার কম থাকায় দুবেলা খাবার আর পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
এব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের একটা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প আছে। এটা প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে সিলেটের তিনটি উপজেলায় প্রশিক্ষন হবে। কামারদের জন্য প্রশিক্ষন আছে এবং প্রশিক্ষনের পর পূর্নঃবাসনের জন্য অনুদান আছে। বিশ্বনাথ উপজেলায় জরিপ করা আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্বনাথে এ প্রশিক্ষন শুরু হয় নাই। দূরাগ্যব্যাধি বিষয়ে তিনি বলেন, অরাগরস্য রোগীর নাম দেখলেই অগ্রাধিকার দিয়েই তাদের সেবা দেয়া হয়। হার্টের রোগী হলে এমএজি ওসমানী মেডিকেল আমাদের হাসপাতালে সমাজসেবা অফিস থেকে সহযোগিতা নিতে পারে।
এবিষয়ে বিশ্বনাথ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, কামাররা যদি সরকারি খাস জমির জন্য আবেদন করে তাহলে অবস্থান বিবেচনায় তাদেরকে দেওয়া হবে।
এবিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবি বলেন, কামার শিল্প বা অন্য কোন শিল্প নিয়ে সরকারের কোন বরাদ্দ নাই। তবে দুরারোগ্য ব্যাধির জন্য প্রতি বছর সমাজসেবা অফিসে বরাদ্দ আসে। তাদের মধ্যে কেউ যদি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তাহলে সমাজসেবা অফিসে আবেদন করতে পারেন।
আপনার মতামত লিখুন :