বিশ্বনাথের ৮ ফুটবল খেলোয়াড় নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৩ সংগঠনের বিবৃতি


alochitosnp07 প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫, ৯:৪৬ অপরাহ্ন /
বিশ্বনাথের ৮ ফুটবল খেলোয়াড় নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৩ সংগঠনের বিবৃতি

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ৮ জন ফুটবল খেলোয়াড়কে ৪ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ‘বিশ্বনাথ উপজেলা ফুটবল এসোসিয়েশন, উপজেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি ও বিশ্বনাথ স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকে’র নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) পৃথক বিবৃতিতে ৩ সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রদান করা বিবৃতিতে দ্রæত ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে- সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে চলমান ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্ণামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ‘বিশ্বনাথ উপজেলা ফুটবল দল বনাম দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ফুটবল দল’র ম্যাচে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। আর এরই জের ধরে জেলা রেফারী এসোসিয়েশন অভিভাবকতুল্য ভ‚মিকায় না থেকে বিশ্বনাথ উপজেলা ফুটবল দলের উদিয়মান’সহ ৮ জন তরুণ খেলোয়াড়কে ৪ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিষয়টিকে ‘অযৌক্তিক ও কঠোর’ সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে আরোও উল্লেখ করা হয়েছে- দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল বিশ্বনাথের অন্যতম জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হয়েছে। সিলেটের ফুটবলের আঁতুড়ঘর হিসেবে বিশ্বনাথ উপজেলার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘জেলা ও বিভাগীয়’ পর্যায়ের নানান প্রতিযোগীতায় বিশ্বনাথের দল একাধিক বার ‘চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এমনকি বিশ্বনাথ উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়ও উঠে এসেছে। এমতাবস্তায় হঠাৎ করে একসাথে এতো খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করা শুধু চরম অন্যায় নয়, বরং তাদের ক্যারিয়ার ধ্বংসের শামিলও বটে।

তিন সংগঠনের পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, ফুটবল তরুণদের মাদক ও সামাজিক অনাচার তথা অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখে। অথচ অকারণে এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ভবিষ্যৎ-এ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বিশ্বনাথের বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম। মাঠে রেফারীর সঙ্গে যেসব আচরণ হয়েছে তার নিন্দা জানালেও ৩ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ম্যাচের ভেতরের ঘটনা মাঠেই ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সমাধান হয়েছে। এরপরও প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হতে পারে, তাই বলে ঢালাওভাবে এক সাথে ৮ জন খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করার মধ্যে ‘বিশ্বনাথের ফুটবল’কে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের আভাস রয়েছে। তাই অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা ও হয়রাণীমূলক মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়ে বিবৃতিদাতারা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্ণামেন্টের পরিচালনা পর্ষদ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতি পুরো ম্যাচ পুনঃমূল্যায়নের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহন করার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ দাবী রেখে বলেন ডিএফএ জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন উক্ত বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে একটি বোর্ড গঠন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে খেলোয়াড় দ্বারা রেফারীর সাথে অসাদাচারণ এবং রেফারীর পক্ষপাতিত্ব ও বিশ্বনাথ উপজেলা ফুটবল দলের সাথে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় তথা দর্শকদের অন্যায় আচরণের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)’র বাইলজ ও ফিফার আইন অনুযায়ী কঠিন বিচারের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।

পৃথক বিবৃতিগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন- বিশ্বনাথ উপজেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান জুয়েল, বিশ্বনাথ উপজেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সভাপতি লোকমান মিয়া এবং বিশ্বনাথ স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকে’র সভাপতি জামিল খান ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম রুহেল।